ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে ইরানকে রাজনৈতিক স্বার্থে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে ওই সূত্রের বরাতে বলা হয়, ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্লাইদুবাইয়ের ইসরাইলগামী বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়টি রাজনৈতিক কারণে বিলম্বিত করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে দুবাইয়ে আটকে পড়া ইসরাইলি যাত্রীদের ফিরিয়ে নিতে আর্কিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমান পাঠানো হয়েছে। আরও একটি ইসরাইলি বিমান পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।
ওয়াইনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রীদের পাশাপাশি তাদের লাগেজও পরিবহনের জন্য একটি কার্গো বিমান পাঠানোর দাবি ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম শর্ত।
আমিরাত সরকারের ঘনিষ্ঠ ওই সূত্র অভিযোগ করেন, ইসরাইল ‘উদ্ধারকারী ফ্লাইট’ শব্দটি এমনভাবে ব্যবহার করছে, যেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোনো যুদ্ধ বা ব্যাপক নিরাপত্তা সংকট চলছে। তাঁর দাবি, বাস্তবে আমিরাতে এমন কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি নেই।
সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, আমিরাতি কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক স্বার্থে নেতানিয়াহু ৩০ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাটিকে ইরানের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটিকে দীর্ঘায়িত করলে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
তবে ইরানের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে। এমন তথ্য এখন পর্যন্ত তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। বরং ইসরাইলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে ওয়াইনেট জানিয়েছে, তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে কোনো সম্পর্কের প্রমাণ পাননি।
৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এ মাঝ আকাশে গুরুতর ঘটনা ঘটে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির সহ-পাইলট ককপিটে থাকা ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করেন। পরে যাত্রী ও ক্রুরা হস্তক্ষেপ করে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচে নেমে যায়। পরে বিমানে থাকা অন্য পাইলটদের সহায়তায় উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। ফ্লাইটটিতে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিলেন।
সৌদি আরবে অবতরণের পর আহত ক্যাপ্টেন ও সহ-পাইলটকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রাথমিক পর্যায়ে সহ-পাইলটের কর্মকাণ্ডকে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার সম্ভাব্য প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। পরে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি ইসলামপন্থি উগ্রবাদে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন।
তবে ফ্লাইদুবাইও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ধরনের অনুমান বা আগাম সিদ্ধান্তে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
নেতানিয়াহু এর আগে বলেন, ঘটনার পেছনে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে। কিন্তু সর্বশেষ তদন্তসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্রের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
ফ্লাইদুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমান সংস্থা হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষও তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ, উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য অন্য কোনো পক্ষের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফলে ঘটনাটির সঙ্গে ইরানের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সহ-পাইলটের কর্মকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং তিনি একাই কাজ করেছিলেন কি না। এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে ফ্লাইদুবাইয়ের ইসরাইলগামী সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। একই সময়ে ঘটনাটি ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই