সম্প্রতি নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোকে দীর্ঘ সময় ওয়ার্মআপ করানোর পরও মাঠে নামাননি জেসুস। রোনালদোর দাবি, ওই ম্যাচে তাকে ৩০ মিনিট খেলানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ওয়ার্মআপ করেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। বিষয়টি তাকে হতাশ করে এবং কোচের ওপর আস্থায় চিড় ধরে।
এরপর জেসুসের সঙ্গে আলোচনায় বসেন রোনালদো। সেই আলোচনার পর কোচের পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য আটটি পয়েন্টের একটি নোট তৈরি করা হয় বলে দাবি করেছেন রোনালদো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নোটে তিনি সম্মতি দিয়েছিলেন এবং সেটি জেসুসের কাছে পৌঁছেও দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জেসুস সেই বিষয়গুলো তুলে ধরেননি। রোনালদোর দাবি, এটি ছিল তার সঙ্গে জেসুসের দ্বিতীয়বার কথা না রাখার ঘটনা। এরপরই তিনি পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রোনালদোর অনুমোদিত আটটি পয়েন্টের সারকথা ছিল –
১. জাতীয় দলকে ঘিরে চলতি মৌসুমের জন্য রোনালদোর সঙ্গে জেসুস নিজেই একটি পরিকল্পনা করেছিলেন।
২. জাতীয় দলের প্রতি রোনালদোর গভীর ভালোবাসা এবং গত ২৪ বছরে দলের ওপর তার ইতিবাচক প্রভাবের কথা স্বীকার করেছিলেন জেসুস।
৩. কোচের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় রোনালদো সম্মতি দিয়েছিলেন।
৪. রোনালদো কখনো কোচের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি; বরং তাকে পেশাদার ও অনুগত খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
৫. নরওয়ের ম্যাচটি মূল পরিকল্পনার অংশ ছিল না। তবে শারীরিকভাবে রোনালদো ম্যাচের ধকল সামলে উঠেছেন মনে হওয়ায় তাকে মাঠে নামানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন জেসুস।
৬. পেলে বা দিয়েগো মারাদোনার মতো মর্যাদার একজন খেলোয়াড়কে দীর্ঘ সময় ওয়ার্মআপ করিয়ে মাঠে না নামানো ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করার কথা ছিল জেসুসের।
৭. জাতীয় দলে রোনালদোকে জেসুস চান – এবং শুধু সামান্য নয়, অনেক বেশি চান; এমন বার্তাও দেওয়ার কথা ছিল।
৮. নরওয়ের ম্যাচের পর সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় না করার বিষয়টি নিয়ে রোনালদোর সঙ্গে কথা হয়েছে। সেটিকে হতাশার মুহূর্ত হিসেবে দেখিয়ে তার পর্তুগালের প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা নিয়ে প্রশ্ন না তোলার কথা ছিল।
রোনালদো স্পষ্ট করেছেন, এসব পয়েন্টে জেসুসের কাছে তার ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাওয়ার কোনো দাবি ছিল না। বরং তার অভিযোগ, ব্যক্তিগত আলোচনায় যে ধরনের সমঝোতা হয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনে জেসুসের বক্তব্য তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
এদিকে, ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য সমর্থক ও সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রোনালদো। অধিনায়ক হিসেবে তার আচরণের গুরুত্বও তিনি স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) তার বিরুদ্ধে যে শাস্তি দেবে, তা মেনে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
এফপিএফের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা এবং পেশাদার খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি দিয়েছেন রোনালদো নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তিনি জানিয়েছেন, শাস্তি থাকলেও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নেননি। শারীরিকভাবে ফিট থাকলে এবং ক্লাবের হয়ে খেলতে পারলে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরও পর্তুগালের হয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত তিনি।
অন্যদিকে, রোনালদোর বক্তব্যের আগে জেসুস রোনালদোর সঙ্গে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়েছিল কি না, তা অস্বীকার করেছেন। তবে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে রোনালদোর ফেরার সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি তিনি। এফপিএফও রোনালদোর সর্বশেষ দীর্ঘ বিবৃতি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
ফলে আপাতত অবসর নয়, বরং রোনালদো-জেসুস দ্বন্দ্বই পর্তুগাল ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা জাতীয় দলের হয়ে নিজের অধ্যায় শেষ করছেন না; বরং শাস্তি কাটিয়ে আবারও পর্তুগালের জার্সিতে ফেরার প্রত্যয়ই জানিয়েছেন।