নেপালের মধ্যাঞ্চলে ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীর পানির স্রোতে ঘরবাড়ি, ঝুলন্ত সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার (১১ অক্টোবর) নদীতীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশের উদ্ধারকারী দল অভিযান চালাচ্ছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে গোরখা জেলার চুমনুব্রি গ্রামে ভূমিধসের ফলে বুধি গণ্ডকী নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে নদীর ভাটির দিকে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
গোরখা জেলার জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানান, নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। বন্যার পানিতে প্রায় এক ডজন বাড়ি ও দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকশিবিরও।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি জানান, কাদামিশ্রিত পানির কারণে নদীর পানির উচ্চতা বাড়ছে। বন্যায় গোরখা জেলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ধাদিং জেলার সংযোগকারী একটি মহাসড়ক সেতুও ভেসে গেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যার পর দুই নারী ও তিন পুরুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। অন্যদিকে, সেনাবাহিনী ৪৯ জনকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা জগৎ এলাকা থেকে ছয়জনকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকশিবির ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেখানে কর্মরত আরও ১৮ জন নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বন্যার আশঙ্কায় গোরখা, তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নাওয়ালপারাসি ও পশ্চিম নাওয়ালপারাসি জেলার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে বলা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের উদ্ধারকারী দল পৌঁছেছে। হেলিকপ্টারের সাহায্যে বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বুধি গণ্ডকী নদী ত্রিশূলী নদীর একটি উপনদী। এর ভাটির দিকে আরেকটি উপনদী এলাকায় গত আগস্টে হিমবাহ-সংশ্লিষ্ট ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৪৫৭ জনের মৃত্যু হয় এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
নতুন করে বন্যা দেখা দেওয়ায় নদীতীরবর্তী জনবসতি ও অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নেপালের কর্তৃপক্ষ।