দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে তারকাদের বাজারমূল্যের লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। ফুটবলারদের বাজারমূল্য নির্ধারণকারী ওয়েবসাইট ট্রান্সফারমার্কেটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মহাদেশটির সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়দের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছেন ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ ও নিকো পাজ।
ট্রান্সফারমার্কেটের ২০২৬ সালের জুনে হালনাগাদ করা বাজারমূল্যের তথ্যে ভিনিসিয়ুসের মূল্য ১৪ কোটি ইউরো। আর্জেন্টাইনদের মধ্যে হুলিয়ান আলভারেজের মূল্য ১০ কোটি ইউরো, এনজো ফার্নান্দেজের ৯ কোটি ইউরো এবং নিকো পাজের ৮ কোটি ইউরো। অন্যদিকে, ব্রাজিলের উদীয়মান তারকা এস্তেভাওয়ের বাজারমূল্য ৮ কোটি ইউরো।
ভিনিসিয়ুসের মূল্য ১৪ কোটি ইউরো
ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ বাজারমূল্যের ফুটবলারদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন। ট্রান্সফারমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বর্তমান বাজারমূল্য ১৪ কোটি ইউরো। এর আগে ২০২৪ সালে তাঁর বাজারমূল্য ২০ কোটি ইউরো পর্যন্ত উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে তা কমে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা ভিনিসিয়ুসের গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণভাগে প্রভাব তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। তবে বাজারমূল্য সময়ের সঙ্গে খেলোয়াড়ের বয়স, পারফরম্যান্স, চুক্তির মেয়াদ ও সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় পরিবর্তিত হয়।
আর্জেন্টাইনদের মধ্যে এগিয়ে আলভারেজ
আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে বাজারমূল্যে এগিয়ে রয়েছেন হুলিয়ান আলভারেজ। ট্রান্সফারমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের বাজারমূল্য ১০ কোটি ইউরো। আক্রমণভাগে একাধিক ভূমিকায় খেলতে পারা এবং গোল করার দক্ষতার কারণে তিনি ইউরোপীয় ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত।
তাঁর পরেই রয়েছেন চেলসির মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। তাঁর বাজারমূল্য ৯ কোটি ইউরো। মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং আক্রমণ তৈরিতে ভূমিকা রাখার কারণে তিনি ক্লাব ও জাতীয় দল – দুই পর্যায়েই গুরুত্বপূর্ণ।
আর্জেন্টিনার উদীয়মান তারকা নিকো পাজও রয়েছেন আলোচনায়। ইতালির কোমোতে খেলা এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের বাজারমূল্য ৮ কোটি ইউরো। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো ও বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার তিনটি প্রীতি ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর এমন পারফরম্যান্স তরুণ এই ফুটবলারের সম্ভাবনাকে আরও আলোচনায় এনেছে।
লাউতারো ও ম্যাক অ্যালিস্টারও মূল্যবানদের তালিকায়
আর্জেন্টিনার তারকা স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজ এবং মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারও বাজারমূল্যের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছেন। ট্রান্সফারমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টার মিলানের লাউতারোর মূল্য ৮ কোটি ৫০ লাখ ইউরো এবং লিভারপুলের ম্যাক অ্যালিস্টারের মূল্য ৭ কোটি ইউরো।
তবে সবচেয়ে দামি একাদশে কারা থাকবেন, তা শুধু বাজারমূল্যের ওপর নির্ভর করে না; খেলোয়াড়দের পজিশন ও একাদশের বিন্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তালিকার শীর্ষে থাকা প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জায়গা একাদশে নিশ্চিত হয় না।
ব্রাজিলের পাঁচ তারকার উপস্থিতি
দক্ষিণ আমেরিকার মূল্যবান ফুটবলারদের আলোচনায় ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাশাপাশি এস্তেভাওয়ের বাজারমূল্য ৮ কোটি ইউরো। ব্রাজিলের এই তরুণ তারকা চেলসির হয়ে খেলছেন।
এ ছাড়া আর্সেনালের ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের বাজারমূল্য ৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরো। ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ওয়েসলি ও গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারও উল্লেখযোগ্য। ট্রান্সফারমার্কেটের প্রতিটি খেলোয়াড়ের হালনাগাদ প্রোফাইল অনুসারে তাঁদের মূল্য ও অবস্থান আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ইকুয়েডরের তিন ফুটবলারও আলোচনায়
দক্ষিণ আমেরিকার মূল্যবান খেলোয়াড়দের মধ্যে ইকুয়েডরের প্রতিনিধিত্বও উল্লেখযোগ্য। চেলসির মিডফিল্ডার মোইসেস কেইসেডোর বাজারমূল্য ১০ কোটি ইউরো। মাঝমাঠে বল পুনরুদ্ধার, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো এবং খেলা তৈরিতে তাঁর ভূমিকা তাঁকে ইউরোপীয় ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন করেছে।
প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের ইকুয়েডরিয়ান ডিফেন্ডার উইলিয়াম পাচোর বাজারমূল্য ৮ কোটি ইউরো। অন্যদিকে, আর্সেনালের হয়ে খেলা পিয়েরো হিনকাপিয়ের বাজারমূল্য ৫ কোটি ইউরো। রক্ষণভাগে তাঁদের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বয়স ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও বাজারমূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
বাজারমূল্যই শেষ কথা নয়
ফুটবলারদের বাজারমূল্য কোনো খেলোয়াড়ের প্রকৃত ট্রান্সফার ফি বা বেতন নয়। এটি তাঁর বয়স, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, চুক্তির মেয়াদ, সম্ভাবনা এবং ফুটবলবাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় করা একটি আনুমানিক মূল্যায়ন।
ট্রান্সফারমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার তারকারা বাজারমূল্যের তালিকায় শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। একই সঙ্গে ইকুয়েডরের কেইসেডো ও পাচোর মতো খেলোয়াড়েরাও মহাদেশটির ফুটবলে নিজেদের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন।
এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বাজারমূল্য ২০২৬ সালের জুনে পাওয়া ট্রান্সফারমার্কেটের তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ একাদশের সুনির্দিষ্ট গঠন ও মোট বাজারমূল্য আলাদাভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় ৮৮ কোটি ইউরোর মোট মূল্যকে যাচাইকৃত চূড়ান্ত হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।