সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এসব উন্নয়নকাজের জন্য মোট ৪৩টি প্যাকেজ অনুমোদন করা হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়।
প্রকল্পগুলোর অনুমোদিত প্রাক্কলিত ব্যয় ২০ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার ২৯৭ টাকা। অন্যদিকে, দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে এসব কাজের মোট চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ কোটি ৯৫ লাখ ২৪ হাজার ৩২ টাকা ১৫ পয়সা।
সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানীয় সড়ক ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
১ নম্বর ওয়ার্ডে হাকির মোড় থেকে আলোর মেলা স্কুল হয়ে বিসি রোড পর্যন্ত ১ হাজার ৭১ মিটার সড়ক সংস্কারে প্রায় ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই ওয়ার্ডের আতাপাড়া পূর্বপাড়ায় ড্রেন ও সিসি সড়ক নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।
২ নম্বর ওয়ার্ডে ভাণ্ডারী হাইস্কুল থেকে চুন্নুর বাড়ি পর্যন্ত ৫৯৩ মিটার বিসি সড়ক সংস্কার এবং ভাণ্ডারী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে বাইতুল জামে মসজিদ পর্যন্ত ৪৩৩ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করা হবে। এ দুটি কাজে বরাদ্দ যথাক্রমে প্রায় ২৭ লাখ ৯২ হাজার এবং ৫১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।
৩ নম্বর ওয়ার্ডে বড়গোলা শতাব্দী ফিলিং স্টেশন থেকে দত্তবাড়ি রোড পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণে প্রায় ৪৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিববাটি ব্রিজ থেকে বাইতুন নুর মসজিদ পর্যন্ত বিএফএস সড়ক নির্মাণের প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের জহুরুলনগর, চকসূত্রাপুর, কামারগাড়ী ও প্রস্তাবিত নগর হাসপাতাল এলাকায় সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়ন করা হবে। এর মধ্যে লাইটহাউস থেকে মদিনা মসজিদ পর্যন্ত ৩০০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণে প্রায় ৫৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাতমাথা থেকে গালাপট্টি মোড় পর্যন্ত ২১৮ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে প্রায় ৩২ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চেলোপাড়া নাইট স্কুল ও লিটন মনসনের বাড়ি এলাকায় আরসিসি সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে প্রায় ৭০ লাখ ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
৭ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে তেঁতুলতলা মোড়, কারমাইকেল রোড, ডাবতলা মোড়, রেড চিলিস থেকে রায় বাহাদুর রোড, কানচাগাড়ী চৌধুরী লেন ও খাদ্যগুদামসংলগ্ন এলাকায় সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়নের কাজ করা হবে। কারমাইকেল রোড থেকে ডাবতলা মোড় পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণে বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৪৩ লাখ ১২ হাজার টাকা।
১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে মালতিনগর আমান বিল্ডিং, দিনা স্টোর, এমএস ক্লাব মাঠ, ঠনঠনিয়া গোয়ালপাড়া ও পেস্তা হাউসসংলগ্ন এলাকায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এমএস ক্লাব মাঠ থেকে ঠনঠনিয়া বাইপাস সড়কের কাজে প্রায় ৭৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা এবং ঠনঠনিয়া পশ্চিমপাড়ায় সড়ক সংস্কারে প্রায় ৭৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
১৩ নম্বর ওয়ার্ডে আরএইচডি রোড থেকে কানপাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণে প্রায় ১৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং বেতগাড়ী আল-আকসা মসজিদ এলাকায় আরসিসি ড্রেন নির্মাণে প্রায় ৪৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
১৫ নম্বর ওয়ার্ডে পুরান বগুড়ার মেহেরুন্নেছা এলাকা থেকে বটতলা মোড় হয়ে হাইওয়ে রোড পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মাণে প্রায় ৭৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। উত্তর গোদারপাড়া ও গোদারপাড়া বাজার এলাকায় বিএফএস ও সিসি সড়ক নির্মাণের জন্যও পৃথক প্যাকেজ অনুমোদন করা হয়েছে।
১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ফকির উদ্দিন স্কুল থেকে লতিফ হাউস পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মাণে প্রায় ৩০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা এবং বিসি সড়ক সংস্কারে প্রায় ৮২ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। নিশিন্দারা উত্তরপাড়া থেকে প্রথম বাইপাস পর্যন্ত বিসি সড়ক নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ১০ হাজার টাকা।
১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে নওদাপাড়া, কুমিরা রোড, ঝোপগাড়ী, ফুলবাড়ী উত্তরপাড়া ও নয়ানদীর ঘাট এলাকায় সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়ন করা হবে। ঝোপগাড়ী বড় কুমিরা রোডের প্রথম বাইপাস থেকে বিসি রোড পর্যন্ত ৫৮৭ মিটার সড়ক পুনর্নির্মাণে প্রায় ৬২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা এবং ফুলবাড়ী এলাকায় আরসিসি ড্রেন নির্মাণে প্রায় ৬৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে বুজরুকবাড়িয়া বাইতুল করিম মসজিদ থেকে ভাটকান্দি তিনমাথা পর্যন্ত বিএফএস সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে প্রায় ৯১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ভাটকান্দি এক্স-ড্রেন থেকে করতোয়া নদী পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৮৯ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। এ ছাড়া ভাটকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৮৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
এসব প্রকল্পের বাইরে ফুলবাড়ী, শিল্পকলা, হাড্ডিপট্টি ও বাদুরতলা গার্লস স্কুল এলাকায় আরসিসি র্যাম্প এবং বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পার্কিং অবকাঠামো ও বসার স্থান নির্মাণের জন্যও বিশেষ প্যাকেজ রাখা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বেহাল অবস্থা ও বর্ষাকালে পানি জমে থাকার কারণে নাগরিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ, সংস্কার ও ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এসব সমস্যা কমানোই প্রকল্পগুলোর অন্যতম লক্ষ্য।
সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ই-টেন্ডার ও লটারির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দ্রুত কাজ শুরু এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের গুণগত মানে অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন শুরুর তারিখ, শেষ করার সময়সীমা এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে নগরবাসী উন্নয়নকাজের বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্টভাবে জানতে পারবেন।