অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে ভেতরে ঢুকে আসা বলটি প্যাডে লাগতেই জোরালো আবেদন করলেন বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু তাতে সাড়া দিলেন না আম্পায়ার। হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও রিভিউ নিতে দেরি করেননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিপ্লেতে দেখা গেল, বলটি আঘাত করত অফ স্টাম্পে। বদলে গেল আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। আর তাতেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন হাসান মাহমুদ।
রোববার (১১ অক্টোবর) আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের এই পেসার টানা তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম পেসার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি। এর আগে দেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন দুই স্পিনার-অলক কাপালী ও সোহাগ গাজী।
তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের পেসার ইবাদত হোসেন প্রথমেই ফিরিয়ে দেন ইকরাম আলিখিলকে। এরপর নতুন বলে আক্রমণে ঝড় তোলেন হাসান মাহমুদ।
নিজের ওভারের প্রথম বলে ইসমাত আলমকে বোল্ড করেন হাসান। নিচু হয়ে ভেতরে ঢুকে আসা বলে ব্যাট নামানোর আগেই ভেঙে যায় স্টাম্প। এক রান করে ফিরতে হয় ইসমাতকে।
পরের বলে কাইস আহমাদের ব্যাটের বাইরের কানায় বল লাগিয়ে দেন হাসান। উইকেটের পেছনে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন লিটন দাস। কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন কাইস।
এরপর হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে জিয়া উর রহমান। হাসানের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিটি তাঁর প্যাডে আঘাত করে। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও বাংলাদেশের রিভিউতে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, বলটি স্টাম্পে আঘাত করত। তাতেই পূর্ণ হয় হাসানের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক।
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে হ্যাটট্রিকের কীর্তি ছিল মাত্র দুজনের। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে পেশাওয়ার টেস্টে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই কীর্তি গড়েন অলক কাপালী। এক দশক পর, ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন অফ স্পিনার সোহাগ গাজী।
এরপর দীর্ঘ ১৩ বছর বাংলাদেশের কোনো বোলার টেস্টে হ্যাটট্রিক করতে পারেননি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন হাসান মাহমুদ। একই সঙ্গে প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি।
হ্যাটট্রিকের পরও থামেননি হাসান। পরে ইয়ামিন আহমাদজাইকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের চতুর্থ পাঁচ উইকেটের কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৩৪৬ রানের জবাবে আফগানিস্তান একসময় ভালো অবস্থানে থাকলেও ইবাদত ও হাসানের বোলিংয়ে দ্রুত ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৪০ রানে। ফলে বাংলাদেশ পায় ১০৬ রানের লিড।
হাসানের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্যও স্মরণীয় এক মুহূর্ত। দেশের পেস বোলিংয়ের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করে আবুধাবিতে নিজের নাম উজ্জ্বল করলেন এই ডানহাতি পেসার।