গত ৮ অক্টোবর ৭৫ বছর বয়সে মারা যান নানা পাটেকার। ভারতের গোয়ায় নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়াকে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বলিউডে শোকের আবহ তৈরি হলেও তনুশ্রীর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
নানার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানাননি তনুশ্রী। ওই সময় তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিনেতার মৃত্যু নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
তনুশ্রী বলেন, সেদিনের কর্মসূচি ও অনুষ্ঠান আয়োজকদের প্রতিশ্রুতিকে তিনি গুরুত্ব দিতে চান। নানা পাটেকারের মৃত্যু নিয়ে কী বলবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যা চলে গেছে, তা চলে গেছে।’ তবে পরবর্তী বক্তব্যে মেতো-সংক্রান্ত অভিযোগের পর নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি।
তনুশ্রীর দাবি, অভিযোগ সামনে আনার পর থেকে তাঁকে দীর্ঘ সময় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। মামলা চলাকালে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এমনকি মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর বিনিময়ে আর্থিক প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, এত চাপের মধ্যেও তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করেননি। তাঁর দাবি, এই আইনি লড়াইয়ের সময় তাঁকে যে মানসিক চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা তাঁর জীবনকে কঠিন করে তুলেছিল। নানার মৃত্যু নিয়ে নিজের কঠোর মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতেও সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
মামলার সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ এক সাক্ষীকে নিয়েও অভিযোগ করেছেন তনুশ্রী। তাঁর দাবি, ওই নারী একসময় তাঁর হেয়ারড্রেসার হিসেবে কাজ করতেন এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে জানতেন। তাঁকে সাক্ষ্য দিতে রাজি করাতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছিল বলে জানান অভিনেত্রী।
তনুশ্রীর অভিযোগ, ওই নারী অজ্ঞাতপরিচয় নম্বর থেকে ফোন পেয়ে ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়েছিলেন। তাঁর বাড়িতে গিয়েও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তনুশ্রী। সাক্ষীর হলফনামা আদালতে জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য উপস্থাপনের দিনই মামলাটি বন্ধ হয়ে যায়।
তবে সাক্ষীকে হুমকি দেওয়া এবং মামলা বন্ধের পেছনে প্রভাব খাটানোর বিষয়ে তনুশ্রীর এসব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এগুলোকে তাঁর অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির একটি গানের দৃশ্যের শুটিং ঘিরে নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগ তোলেন তনুশ্রী। ২০১৮ সালে ভারতের মেতো আন্দোলনের সময় তিনি বিষয়টি আবার সামনে আনলে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নানা পাটেকার অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
অভিযোগের পর মুম্বাই পুলিশ তদন্ত করে। ২০১৯ সালের জুনে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়ে পুলিশ আদালতে ‘বি-সামারি’ প্রতিবেদন জমা দেয় এবং মামলা বন্ধের সুপারিশ করে। ওই সময় তনুশ্রী ও তাঁর আইনজীবী পুলিশের প্রতিবেদনের বিরোধিতা করার কথা জানিয়েছিলেন।
এখানে উল্লেখযোগ্য, পুলিশের মামলা বন্ধের সুপারিশ এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়। একইভাবে, অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া মানেই তা প্রমাণিত হওয়া নয়। তাই ঘটনাটির প্রতিবেদন তৈরিতে তনুশ্রীর বক্তব্য, নানা পাটেকারের অভিযোগ অস্বীকার এবং তদন্তের নথিভুক্ত অবস্থান-সবকিছুকেই আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি।
নানা পাটেকারের মৃত্যুর পর তনুশ্রীর বক্তব্য নতুন করে বলিউডে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ নিয়ে যেমন আলোচনা হচ্ছে, তেমনি মৃত্যুর পর অভিনেতাকে নিয়ে তাঁর কঠোর মন্তব্যের সমালোচনাও এসেছে। পুরোনো এই ঘটনা আবারও সামনে আসায় মেতো আন্দোলন, অভিযোগের তদন্ত এবং ভুক্তভোগীর বক্তব্য শোনার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
/NDTV, India Today, Reuters