বিরতির পর আক্রমণে আরও ধারালো হয়ে উঠল ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণকে চাপে ফেলার সুফলও পেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে ৪-২ গোলের জয় তুলে নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
মঙ্গলবার ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন ভান্দেরসন, রাফিনিয়া, ব্রুনো গিমারাইস ও ভিনিসিউস জুনিয়র। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল দুটি করেন আলেসান্দ্রো চিরকাতি ও কনর মেটকাফ।
দুই দলের প্রথম ম্যাচটি শেষ হয়েছিল ১-১ গোলে। শেষ মুহূর্তে গোল করে সেবার সমতা ফিরিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল।
শুরুতেই এগিয়ে ব্রাজিল
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ডি-বক্সের ভেতর গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পোর পাস পেয়ে আড়াআড়ি শটে বল জালে পাঠান ভান্দেরসন।
এরপর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগও পেয়েছিল সফরকারীরা। পরের মিনিটেই রাফিনিয়ার শট ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে উঠলেও ২৮তম মিনিটে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। ডি-বক্সের ভেতর থেকে জোরালো ভলিতে ব্রাজিলের জালে বল পাঠান আলেসান্দ্রো চিরকাতি।
এর পাঁচ মিনিট পরই স্বাগতিকদের উচ্ছ্বাস আরও বাড়ে। ডি-বক্সের বাইরে থেকে গতিময় শটে ব্রাজিলের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন কনর মেটকাফ।
বিরতির আগে সমতায় ফেরে ব্রাজিল
পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি ব্রাজিল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরায় তারা।
৪৪তম মিনিটে ড্যানিলো সান্তোসকে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি শুটার ফাউল করলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তা নিয়ে ব্রাজিলকে পেনাল্টি দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করেন রাফিনিয়া।
অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ সঠিক দিকেই ঝাঁপ দিয়েছিলেন। কিন্তু বার্সেলোনার অধিনায়কের জোরালো শট ঠেকানোর মতো অবস্থায় ছিলেন না তিনি।
২-২ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর ব্রাজিলের দাপট; দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল। ৫৫তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে সফরকারীরা। ড্যানিলো সান্তোসের শট অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার লুকাস হ্যারিংটনের পায়ে লেগে দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
এরপর ব্রুনো গিমারাইসের কর্নার থেকে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস হেড করে গোলের চেষ্টা করেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক বিচ দারুণ দক্ষতায় বলটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন।
৬৪তম মিনিটে একটি ট্যাকলকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছুটা ধাক্কাধাক্কিও হয়। তবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ম্যাচ কর্মকর্তারা।
গিমারাইসের গোলে ব্রাজিলের লিড
এর পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচে আবার এগিয়ে যায় ব্রাজিল। দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণে গোলটি আসে।
এন্দ্রিকের চমৎকার কাটব্যাক থেকে খুব কাছ থেকে বল জালে পাঠান ব্রুনো গিমারাইস। তাঁর গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
৭৬তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। ডি-বক্সের মাথা থেকে এস্তেভাওয়ের শট কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি বলে দ্রুত শট নেওয়ার চেষ্টা করেন এন্দ্রিক। তবে তাঁর পায়ে লেগে বল পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।
ভিনিসিউসের পেনাল্টিতে ব্যবধান ৪-২
৮০তম মিনিটে আবারও পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। ডি-বক্সে নেস্টরি ইরানকুন্ডা ভিনিসিউস জুনিয়রকে ফাউল করলে স্পট কিকের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।
পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্রাজিলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে দেন ভিনিসিউস। শটটি খুব জোরালো ছিল না, কিন্তু প্রতিক্রিয়া দেখাতে কিছুটা দেরি করায় বলের নাগাল পাননি অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক বিচ। পোস্ট ঘেঁষে জালে ঢুকে যায় বল।
৮৭তম মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। লুকাস হ্যারিংটনের শট অল্পের জন্য পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
শেষ কয়েক মিনিটে আর তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ফলে ৪-২ গোলের জয় নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে ব্রাজিল।
প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে আটকে যাওয়ার পর দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের আক্রমণভাগের উন্নতিরও জানান দিল আনচেলত্তির দল। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টা আক্রমণ, দ্রুত পাসিং ও গোলের সুযোগ তৈরিতে ব্রাজিলকে আগের ম্যাচের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর দেখা যায়।