মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ফরাসি ভাষার সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বের সমালোচনা করে চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
নেতানিয়াহু বলেন, ফ্রান্সের নেতারা সময়মতো প্রস্তুতি নেননি। তাঁর অভিযোগ, তাঁরা চরমপন্থি ইসলামের আগ্রাসনের কাছে নতি স্বীকার করেছেন। ফ্রান্সের প্রতি তোষণনীতি পরিহার করে চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার পরামর্শও দেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ম্যাক্রোঁকে দেওয়া সতর্কবার্তার কথাও তুলে ধরেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ওই সময় তিনি ম্যাক্রোঁকে বলেছিলেন, হামাসকে ধ্বংস করা না হলে প্যারিসেও তাদের উপস্থিতি দেখা যাবে। ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে সেই সতর্কবার্তার সঙ্গে যুক্ত করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর এসব মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফরাসি সরকার নিরাপত্তা জোরদার এবং কয়েকটি এলাকায় কারফিউ জারি করেছে।
তবে ফ্রান্সের বিক্ষোভের পেছনে চরমপন্থি ইসলাম বা অভিবাসীদের দায়ী করার বিষয়ে নেতানিয়াহুর দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাঁর সাক্ষাৎকারে তুলে ধরা হয়নি। বিক্ষোভের কারণ ও সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে ফরাসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও ফ্রান্স ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ২০২৫ সালে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন ম্যাক্রোঁ, যা ইসরায়েল সরকারের বিরোধিতার মুখে পড়ে। ফলে সাম্প্রতিক দাঙ্গা নিয়ে নেতানিয়াহুর মন্তব্য দুই দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক মতবিরোধের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফ্রান্সের বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করে অভিবাসননীতি ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে আনেন। অন্যদিকে, ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি নেতাদের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ম্যাক্রোঁ। তিনি অভিযোগ করেছেন, কিছু বিদেশি নেতা ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন।
ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়লেও বিক্ষোভের প্রকৃত কারণ, সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সরকারের পদক্ষেপের কার্যকারিতা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও তদন্তের ফলাফলই গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: আই২৪নিউজ এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)