ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও সাফল্য বরাবরই তাদের অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমেও সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রত্যাশা দলটির সমর্থকদের। প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় আত্মবিশ্বাসের দিক থেকেও এগিয়ে থাকার কথা স্প্যানিশ ক্লাবটির। তবে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। লাইপজিগের গতিময় ফুটবল এবং দ্রুত আক্রমণে ওঠার ক্ষমতা রিয়ালের রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
চলতি মৌসুমে বার্নাব্যুতে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। নিজেদের মাঠে সমর্থকদের সামনে জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে নিখুঁত সূচনা ধরে রাখাই এখন তাদের লক্ষ্য। কোচ হোসে মরিনিওর জন্য ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইউরোপের প্রতিযোগিতায় ভালো অবস্থান নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই নিয়মিত পয়েন্ট সংগ্রহ করা জরুরি।
তবে ম্যাচের আগে ঘরোয়া ফুটবলে বড় জয়ের আত্মবিশ্বাসও রয়েছে রিয়ালের। সেভিয়ার বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নামছে দলটি। ওই ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো ইউরোপীয় মঞ্চেও কাজে লাগাতে চাইবে তারা। আক্রমণে গতি, মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ এবং সুযোগ তৈরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে লাইপজিগের বিপক্ষে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

রিয়ালের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহামের ভূমিকা ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এমবাপ্পের গতি, গোল করার দক্ষতা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক খুঁজে নেওয়ার ক্ষমতা লাইপজিগকে চাপে রাখতে পারে। অন্যদিকে, বেলিংহামের কাজ হবে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা এবং গোলের সুযোগ সৃষ্টি করা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গতিও রিয়ালের আক্রমণে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে ম্যাচের আগে প্রকাশিত সম্ভাব্য একাদশ আর মাঠে নামা চূড়ান্ত একাদশ এক নাও হতে পারে।
মরিনিওর কৌশলে মাঝমাঠের ভারসাম্যও বিশেষ গুরুত্ব পাবে। শুধু আক্রমণে চাপ তৈরি করলেই চলবে না, বল হারানোর পর দ্রুত রক্ষণে ফিরে আসতে হবে রিয়ালকে। লাইপজিগ পাল্টা আক্রমণের সুযোগ পেলে বিপদ তৈরি করতে পারে। তাই আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে সমন্বয় ধরে রাখাই হবে স্বাগতিকদের অন্যতম প্রধান কাজ।
অন্যদিকে, লাইপজিগের জন্য বার্নাব্যুতে খেলাটা সহজ হবে না। চ্যাম্পিয়নস লিগে ভালো অবস্থান তৈরি করতে হলে জার্মান দলটিকে এই ম্যাচে পয়েন্ট পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। রিয়ালের আক্রমণ ঠেকাতে রক্ষণভাগকে সংগঠিত রাখার পাশাপাশি সুযোগ বুঝে দ্রুত আক্রমণে ওঠা তাদের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
রিয়ালের বিপক্ষে শুরুতেই গোল হজম করলে ম্যাচে ফিরে আসা কঠিন হয়ে যেতে পারে লাইপজিগের জন্য। সে কারণে প্রথমার্ধে রক্ষণ সামলে খেলার পাশাপাশি বল দখলে রাখার সুযোগ খুঁজবে তারা। তবে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়লে রিয়ালের আক্রমণ আরও ধারালো হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। ফলে দুই দলের কৌশলগত লড়াইও ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে.।

চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের লিগ পর্বে ৩৬টি দল একটি সম্মিলিত পয়েন্ট তালিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আট ম্যাচ শেষে শীর্ষ আটে থাকা দলগুলো সরাসরি শেষ ষোলোতে উঠবে। তাই প্রতিটি ম্যাচের পয়েন্ট পরবর্তী পর্বে যাওয়ার হিসাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রিয়াল মাদ্রিদ প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ছয় পয়েন্ট নিয়ে এই ম্যাচে নামছে। লাইপজিগের বিপক্ষে জয় পেলে তাদের অবস্থান আরও মজবুত হবে।
মাদ্রিদের স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৯টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার রাত ১টায় শুরু হওয়ার কথা। দুই দলের শক্তি, কৌশল ও ইউরোপীয় অভিজ্ঞতার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কারা এগিয়ে থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে রিয়াল কি জয়ের ধারা অব্যাহত রাখবে, নাকি লাইপজিগ বার্নাব্যুতে অঘটন ঘটাবে—সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।
কে হাসবে শেষ হাসি সেটাই দেখার বিষয় .