সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। প্যারিস, লিয়ঁ, মার্সেই, বোর্দো, লিল ও নিসসহ বিভিন্ন শহরের কিছু এলাকায় আংশিক কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনেরও পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
সহিংসতার পেছনে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা ও সরকারি সেবার ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়গুলো সামনে এসেছে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও আহত হন।
ফরাসি সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনেস পদত্যাগের প্রস্তাব দেন। তবে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করেননি।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে সহিংসতা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যেসব ঘাটতি ছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু স্থানীয় প্রশাসনকে পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিত ও নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারির নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দাঙ্গা ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে ফরাসি সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের চাকরি ধরে রাখা এবং ব্যবসার নগদ অর্থের সংকট মোকাবিলায় সরকারি সহায়তা ও অর্থায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকেরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ এবং বিক্ষোভের কারণ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে।
কর্তৃপক্ষের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা এবং নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো।
সূত্র: আল জাজিরা।