সোমবার (১৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ড্যানিলোভিচ এসব মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি বলেন, ইশরাক হোসেনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের পর তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারের সদস্যদের কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার প্রতিফলন হিসেবেও ঘটনাটিকে উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে অতীতের তুলনায় ভিন্ন পথে এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন এই সাবেক মার্কিন কূটনীতিক।
জন এফ ড্যানিলোভিচ ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সিলর এবং ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ডেপুটি চিফ অব মিশন বা উপ-রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হন।
এর আগে সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে স্বেচ্ছায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।
ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা-৬ আসনসহ আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করতে চান তিনি। পাশাপাশি তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের কারণে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হোক, সেটিও চান না বলে জানান।
তবে এর আগে গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হলে ইশরাক তা অস্বীকার করেছিলেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের সিদ্ধান্তকে স্বেচ্ছায় নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ এলাকায় ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে কয়েকজনকে আটক করার নির্দেশ দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এক তরুণকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং একজনকে গুলি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একজন প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের অভিযানে অংশ নেওয়া, আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাইরে থেকে এভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তদন্তে আইনের কোনো লঙ্ঘন পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিতর্কটি রাজনৈতিকভাবে নতুন মাত্রা পেয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন কূটনীতিকের মন্তব্যে সরকারের জবাবদিহি ও নেতৃত্বের প্রশ্নটিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে।