রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ফ্রান্স জ্বলছে!’ তাঁর দাবি, ভিন্ন এক জগৎ থেকে আসা এবং ‘হৃদয়ে ঘৃণা পোষণকারী’ মানুষের অভিবাসনের কারণে দেশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই সীমান্ত বন্ধ করে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষা খাতের সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। তবে দেশটির অস্থিরতার জন্য অভিবাসীদের দায়ী করার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন; বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
ফ্রান্সে বিক্ষোভের সূত্রপাত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মীর সংকট, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, দুর্বল অবকাঠামো এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।
পরে এ আন্দোলন বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি কর্মীদের বেতন, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সরকারি পরিষেবায় চাপের মতো বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শ্রমিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোও আন্দোলনে যুক্ত হয়।
প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া বিক্ষোভের কিছু অংশ পরে সহিংসতায় রূপ নেয়। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট এবং সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভ ঘিরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ধরপাকড়ের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা এবং বিক্ষোভকারীদের দাবির বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে দেশটির রাজনীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য অভিবাসন নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে। একদিকে তাঁর বক্তব্যে অভিবাসনকে সহিংসতার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে বিক্ষোভের পেছনে শিক্ষা খাতের দুরবস্থা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফলে ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতি শুধু আইনশৃঙ্খলার সংকট নয়; দেশটির শিক্ষা, অর্থনীতি, অভিবাসন নীতি ও রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।