জনপ্রতিনিধি না হয়েও টাঙ্গাইলের বিএনপি নেতা আব্দুস ছাত্তার সিকদার তিন বছরে ৬২ সড়ক সংস্কার, ব্যয় করেন ৩০ লাখ টাকা
অনলাইন ডেস্ক
সময় :
Thursday, September 24, 2026
সংবাদটি শেয়ার করুন:
জনপ্রতিনিধি নন। সরকারি কোনো প্রকল্পও নয়। তবু মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমাতে টানা তিন বছর ধরে নিজের অর্থে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক সংস্কার করে যাচ্ছেন আব্দুস ছাত্তার সিকদার। এ সময়ে ইউনিয়নের ২০ গ্রামের ৬২টি সড়কে ভাঙা ইট ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। এতে ব্যবহার হয়েছে তিন শতাধিক মাহিন্দ্র ট্রাক ইট, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা।
মির্জাপুর উপজেলার ৯ নম্বর বহুরিয়া ইউনিয়নের এসব সড়কের অনেকগুলো বর্ষায় কাদামাটি ও পানিতে তলিয়ে যেত। কোথাও ছিল বড় বড় খানাখন্দ। ফলে গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হতো। অনেক সময় গ্রামের ভেতরে যানবাহন প্রবেশ করাও কঠিন হয়ে পড়ত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগিয়ে আসেন আব্দুস ছাত্তার সিকদার। তাঁর উদ্যোগে গত তিন বছরে বিভিন্ন সড়কে ভাঙা ইট ফেলা হয়েছে। কাজটি কোনো সরকারি প্রকল্পের আওতায় নয় এবং কোনো সংগঠনের অর্থায়নেও নয় বলে স্থানীয় সূত্র ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে বর্ষাকালে কোনো সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে স্থানীয়রা ছাত্তার সিকদারকে বিষয়টি জানান। এরপর তাঁর ইটভাটা থেকে ভাঙা ইট পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
দিঘুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়ক সংস্কারের এ ধরনের কাজ মানুষের জন্য উপকারে এসেছে।
বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ হোসাইন বলেন, দক্ষিণ মির্জাপুর, বিশেষ করে বহুরিয়া ইউনিয়নে ছাত্তার নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক সংগঠনের একজন নেতার বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘যতটুকু সম্ভব মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি’
মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য আব্দুস ছাত্তার সিকদার বলেন, ‘নিজের জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব, মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। তিন বছর ধরে এভাবেই কাজ করছি।’
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এলাকার মানুষ চাইলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা রাখেন। তবে নির্বাচিত হতে না পারলেও মানুষের জন্য এ ধরনের কাজ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্যের কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক সংস্কারের কাজগুলো ব্যক্তিগত অর্থায়নে করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গত তিন বছরে ২০ গ্রামের ৬২টি সড়কে ভাঙা ইট ফেলার এই উদ্যোগ স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে সহায়ক হয়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। তবে এসব সড়কের স্থায়ী উন্নয়ন ও টেকসই সংস্কারের জন্য সরকারি প্রকল্প ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।