মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যের বরাতে এ খবর প্রকাশিত হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর এই হিসাবের মধ্যে রিয়াদ এয়ারওয়েজের যাত্রীরা অন্তর্ভুক্ত নন। এয়ারলাইনসটির তথ্য পাওয়া গেলে মোট ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা হালনাগাদ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, প্রভাবিত ৬১টি ফ্লাইটের মধ্যে ২২টি সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি চলাচল করে। বাকি ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৪টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালাম এয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিও রয়েছেন। পরদিনও বিমানবন্দর এলাকায় হামলার খবর পাওয়া যায়।
নিরাপত্তাঝুঁকি ও বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল, স্থগিত কিংবা বিকল্প পথে পরিচালনার ঘটনা ঘটেছে। এতে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের পাশাপাশি ট্রানজিটের মাধ্যমে অন্য গন্তব্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
পরিস্থিতির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল করেছে।
এদিকে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমে বিধিনিষেধের প্রভাব সরাসরি ফ্লাইটের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটায় যাত্রীদের সংযোগকারী ফ্লাইট, টিকিট পুনর্নির্ধারণ ও ভ্রমণসূচি নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
এ অবস্থায় সৌদি আরবগামী যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।