আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিন লাঞ্চ বিরতির পরও ব্যাটিং চালিয়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ইনিংসের লিডসহ আফগানিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান। টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জিততে হলে আফগানিস্তানকে গড়তে হবে বিশ্ব রেকর্ড।
দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন লিটন। দলের ব্যাটিংকে শক্ত ভিত দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। একের পর এক দৃষ্টিনন্দন শটে রান তুলতে থাকা লিটন শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যান তিন অঙ্কের ঘরে।
সালিম সাফির বলে পুল করতে গিয়ে আউট হওয়ার আগে ১১৭ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে ১০২ রান করেন তিনি। এটি লিটনের টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম শতক। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যর্থতার পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে এমন প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
এই টেস্টে দুই ইনিংসেই ফিফটি বা তার বেশি রান করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলকও অতিক্রম করেছেন লিটন। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে এই কৃতিত্ব অর্জন করা পঞ্চম ক্রিকেটার তিনি।
লিটনের পাশাপাশি ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সপ্তম উইকেটে লিটনের সঙ্গে ১৪৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। লিটনের সেঞ্চুরির সঙ্গে মিরাজের ফিফটিও পূর্ণ হওয়ায় বাংলাদেশের ইনিংস ঘোষণার আগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়।
আগের দিনের ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে লিটন ও মিরাজ বেশ স্বচ্ছন্দে ব্যাটিং করেন। যদিও দুজনের ব্যাটিংয়ের সময় কয়েকটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি আফগানিস্তান। ফলে বড় কোনো চাপ ছাড়াই রান বাড়িয়ে নেয় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে তিনটি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি এসেছে। মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর আশির ঘরে পৌঁছানো ইনিংসগুলোর সঙ্গে লিটনের শতক যোগ হয়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।
বড় লক্ষ্য নির্ধারণের পর ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। এতে ম্যাচের শেষ দিকে আফগানিস্তানকে অলআউট করার জন্য সফরকারী দলের হাতে প্রায় সাড়ে চার সেশন সময় থাকার কথা। অন্যদিকে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই সতর্ক ব্যাটিং করতে হবে রহমত শাহদের।
টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে এত বড় লক্ষ্য সফলভাবে তাড়া করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে ম্যাচ জিততে হলে আফগানিস্তানকে শুধু বড় রানই করতে হবে না, দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থেকে বাংলাদেশের বোলারদেরও সামলাতে হবে।
লিটনের ব্যাটে দারুণ প্রত্যাবর্তন, মিরাজের কার্যকর ইনিংস এবং দলের সম্মিলিত ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ এখন জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে মাঠে। শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান এই কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে পারে, নাকি বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচ নিজেদের করে নেন। সেদিকেই থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর।