বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে তরুণ সমাজ নেতৃত্ব দিয়েছে। একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের অবদানও অপরিসীম। তাই জাতীয় উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তরুণদের জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক বিশেষ অতিথি বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে দেশ গঠন ও জাতীয় নিরাপত্তায় তরুণদের ভূমিকা তুলে ধরে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক বিশ্বে জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সীমান্ত সুরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে মানবিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতাও নিবিড়ভাবে জড়িত।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় আহতদের উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং আন্দোলনকারীদের সুরক্ষায় শিক্ষার্থীরা যে সাহসিকতা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা প্রশংসনীয়।
তাঁর মতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও আত্মত্যাগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে এসব অভিজ্ঞতা নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তরুণেরা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথি বক্তৃতা শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাঁদের গবেষণামূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
এর আগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ক্যারিয়ার ফেয়ারের উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।