বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সেনাসদরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। সোমবার অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতের বিষয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় চলতি বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ‘টাইগার লাইটনিং-২০২৬’ যৌথ সামরিক মহড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও কর্মদক্ষতার প্রশংসা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
‘টাইগার লাইটনিং-২০২৬’ মহড়া ১৯ জুলাই সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসে শুরু হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্যাসিফিক কমান্ড (USARPAC) ও ওরেগন ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা এতে অংশ নেন। মহড়ায় দুই দেশের সামরিক সদস্যরা জঙ্গল অভিযান, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, চিকিৎসা সহায়তা, কাউন্টার-আইইডি এবং বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মহড়াটির লক্ষ্য ছিল দুই বাহিনীর পারস্পরিক সক্ষমতা ও আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানো, পেশাগত সম্পর্ক জোরদার করা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে যৌথভাবে কাজের প্রস্তুতি উন্নত করা।
২৯ জুলাই জালালাবাদ সেনানিবাসে মহড়াটির সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্যাসিফিক কমান্ড ও ওরেগন ন্যাশনাল গার্ডের ৮৮ সদস্য এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড ও বিভিন্ন শাখার ৯২ সদস্য অংশ নেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে। ‘টাইগার লাইটনিং’ দুই দেশের সামরিক বাহিনীর নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রমের একটি অংশ।