আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার ভারতের মুখোমুখি হয়ে দারুণ লড়াই করেছে জাপান। বৃষ্টির কারণে ভেজা আউটফিল্ডে ম্যাচটি নেমে আসে ৫ ওভারে। আগে ব্যাট করে ভারত ৫ ওভারে ৪ উইকেটে ৩২ রান করে। জবাবে জাপান ৫ ওভারে ৩ উইকেটে ৩০ রান করলে ভারত জেতে মাত্র ২ রানে।
ম্যাচের ফলের চেয়েও শেষ ওভারের একটি আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা। বিশেষ করে রিভার্স-হিটের চেষ্টা করা ব্যাটারের বিপক্ষে অক্ষর প্যাটেলের করা একটি ডেলিভারিকে প্রথমে ওয়াইড দেওয়ার পর সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় প্রশ্ন উঠেছে।
জাপানের জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৮ রান। অক্ষর প্যাটেলের ওভারে পরিস্থিতি দ্রুত জমে ওঠে। জাপানের বাঁহাতি ব্যাটার আলেকজান্ডার শিরাই-প্যাটমোর রিভার্স-হিটের চেষ্টা করেন। বলটি ব্যাটে লাগেনি এবং তাঁর লেগ সাইড দিয়ে চলে যায়।
মাঠের আম্পায়ার ক্রিস থারগেট প্রথমে বলটিকে ওয়াইড ঘোষণা করেন। এরপর একই ওভারে আরেকটি কাছাকাছি ডেলিভারিতেও ওয়াইডের সিদ্ধান্ত আসে। তখন ভারতীয় খেলোয়াড়েরা আম্পায়ারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত লেগ আম্পায়ার ক্রিস ব্রাউনের সঙ্গে আলোচনা করে থারগেট সিদ্ধান্ত সংশোধন করেন। ম্যাচে কোনো টিভি আম্পায়ার ছিল না।
এখানেই রয়েছে মূল বিষয়। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ওয়াইডের নিয়মে কোনো ব্যাটার রিভার্স-সুইপ বা সুইচ-হিটের চেষ্টা করলে সাধারণ লেগ-সাইড ওয়াইডের ব্যাখ্যা প্রযোজ্য হয় না। বরং ওই পরিস্থিতিতে উভয় পাশেই অফ-সাইডের ওয়াইড গাইডলাইন বিবেচনা করা হয়।
অর্থাৎ, ব্যাটার রিভার্স-হিটের চেষ্টা করার পর লেগ সাইড দিয়ে যাওয়া বলও নির্দিষ্ট ওয়াইড গাইডলাইনের বাইরে গেলে ওয়াইড হতে পারে। টি-টোয়েন্টিতে এই গাইডলাইন স্টাম্পের কেন্দ্র থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার দূরত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাই শুধু বলটি ব্যাটারের লেগ সাইড দিয়ে গেছে বলেই সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াইড বা নট-ওয়াইড বলা যাবে না। ব্যাটার কী ধরনের শটের চেষ্টা করেছেন এবং বলটি ওয়াইড গাইডলাইনের বাইরে দিয়ে গেছে কি না—এসব বিষয় আম্পায়ারকে বিবেচনা করতে হয়।
হ্যাঁ। মাঠের আম্পায়ার কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর একই ডেলিভারি সম্পর্কে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত সংশোধন করতে পারেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ওয়াইড-বল সংক্রান্ত নিয়মে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার বা সংশোধনের বিধান রয়েছে। বিশেষ করে পরবর্তী ডেলিভারি শুরু হওয়ার আগে সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ থাকে।
এই ম্যাচে যেহেতু কোনো টিভি আম্পায়ার ছিল না, মাঠের দুই আম্পায়ারের মধ্যকার যোগাযোগই ছিল সিদ্ধান্তের ভিত্তি। ম্যাচের কর্মকর্তাদের তালিকায় ক্রিস ব্রাউন ও ক্রিস থারগেটকে অন-ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে এবং ভেংগালিল নারায়ণন কুট্টিকে ম্যাচ রেফারি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ম্যাচ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি। ফলে প্রথম সিদ্ধান্ত কেন বহাল ছিল এবং পরের সিদ্ধান্ত কেন সংশোধন করা হলো—এটি নিশ্চিতভাবে বলা ঠিক হবে না।
তবে নিয়মের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আম্পায়াররা প্রতিটি ডেলিভারির পরিস্থিতি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করেন। ব্যাটারের অবস্থান, শটের চেষ্টা এবং বলের গতিপথ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে দুটি ডেলিভারি দেখতে কাছাকাছি হলেও আম্পায়ারের দৃষ্টিতে সেগুলোর পরিস্থিতি এক নাও হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত বিতর্কের মধ্যেই জাপান জয়ের খুব কাছে পৌঁছে যায়। তবে অক্ষর প্যাটেলের শেষ ওভারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভারত ২ রানের জয় নিশ্চিত করে। ৫ ওভারে ৩২ রান রক্ষা করে পাওয়া এই জয় ম্যাচটিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারত-জাপানের প্রথম লড়াই হিসেবে স্মরণীয় করে রাখে।
/প্রথমআলো