ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার কঠিন সমীকরণ সামনে রেখে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। ফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প নেই টাইগারদের সামনে। শুধু জয় পেলেই হবে না, রান রেটের হিসাবও মেলাতে হবে দলকে।
আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জয়ের পর ব্যাটিং বেছে নেয় বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে রান তাড়া করার চাপে ফেলার পাশাপাশি বড় ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্যও থাকবে দলের সামনে। কারণ, আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরে যাওয়ায় বাংলাদেশের নেট রান রেটে বড় ধাক্কা লেগেছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ধরে রাখতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় প্রয়োজন।
প্রথমে ব্যাটিং করার সুযোগ পাওয়ায় নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী রান তোলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে কত রানের লক্ষ্য প্রতিপক্ষের সামনে দাঁড় করাতে হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হিসাব অনুযায়ী, ফাইনালে ওঠার সমীকরণ মেলাতে বাংলাদেশকে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে জিততে হতে পারে। ফলে ব্যাটিংয়ের শুরু থেকেই রান তোলার গতি ধরে রাখা এবং শেষ পর্যন্ত বড় সংগ্রহ গড়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে ব্যাটারদের।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে রেখে বাংলাদেশের একাদশে এসেছে তিনটি পরিবর্তন। সবচেয়ে আলোচিত সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। এই ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে অভিষেক হচ্ছে তাঁর। ঘরোয়া লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১৯ ম্যাচে ৩৫ উইকেট নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে এই স্পিনারের। তাঁর ইকোনমি রেট ৪.৫, যা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের ইঙ্গিত দেয়। এর আগে একটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন তিনি।
আলিসের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে অভিজ্ঞ ও আক্রমণাত্মক ব্যাটার থাকায় মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট তুলে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে। সেই দায়িত্বে আলিস কতটা কার্যকর হন, তা দেখার অপেক্ষায় থাকবেন সমর্থকেরা।
এদিকে একাদশে ফিরেছেন ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন ও অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁদের অন্তর্ভুক্তির ফলে ব্যাটিংয়ের গভীরতা এবং বোলিংয়ের বিকল্প বাড়ানোর চেষ্টা করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। অন্যদিকে জায়গা হারিয়েছেন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, উইকেটকিপার-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান ও লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।
তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। পেস আক্রমণে রয়েছেন শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ। তাঁদের সঙ্গে স্পিন বিভাগে আলিস আল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বাংলাদেশের মতো আফগানিস্তানও এই ম্যাচের জন্য একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে। বাদ পড়েছেন পেসার ফজলহক ফারুকি ও জিয়াউর রহমান। তাঁদের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েছেন দুই পেসার ইয়ামিন আহমেদজাই ও বিলাল সামি। বাংলাদেশের বিপক্ষে নতুন এই সমন্বয় নিয়ে মাঠে নামছে আফগানরা।
আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে রয়েছেন ইবরাহিম জাদরান, রহমানউল্লাহ গুরবাজ, সেদিকুল্লাহ আতাল, রহমত শাহ ও হাসমতউল্লাহ শাহিদির মতো ক্রিকেটাররা। পাশাপাশি অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবির উপস্থিতি দলটিকে বাড়তি ভারসাম্য দেবে। বোলিংয়ে নেতৃত্ব দেবেন অধিনায়ক রশিদ খান। তাঁর সঙ্গে থাকবেন আল্লাহ গজনফার এবং নতুন দুই পেসার।
বাংলাদেশের একাদশে রয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, মেহেদী হাসান মিরাজ, আলিস আল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ।
নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস চোটের কারণে এই ম্যাচেও খেলছেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাওহিদ হৃদয়। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নেতৃত্বের দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে তাঁকে।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্য দ্বিমুখী—প্রথমে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বড় সংগ্রহ গড়া, এরপর বোলারদের সহায়তায় আফগানিস্তানকে নির্ধারিত ব্যবধানের মধ্যে আটকে রাখা। ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে পারলে এবং বোলাররা ধারাবাহিকভাবে উইকেট নিতে পারলে ফাইনালের পথ খুলে যেতে পারে বাংলাদেশের সামনে। তবে সামান্য ভুলও রান রেটের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই লড়াইয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ব্যবধানের দিকেও সতর্ক থাকতে হবে টাইগারদের।