ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোটের নেতাদের করা যৌথ আবেদনে ১৪টি ত্রুটি চিহ্নিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছে কোর্ট ফি বাবদ ২২০ রুপির ঘাটতি, প্রয়োজনীয় আইনি নথির অনুপস্থিতি এবং কয়েকটি নথির অস্পষ্ট অনুলিপি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) আবেদনটি জমা দেওয়ার পর এসব ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রুটিগুলো সংশোধন না করা পর্যন্ত আবেদনটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হবে না।
রেজিস্ট্রি বিভাগের আপত্তির মধ্যে রয়েছে, ৯ জন আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় ওকালতনামা জমা না দেওয়া। ওকালতনামা হলো আইনজীবীকে কোনো পক্ষের হয়ে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতা দেওয়া সংক্রান্ত নথি। এ ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের ফটোকপি অস্পষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে অতিরিক্ত ছোট ফন্ট ব্যবহার, দুটি নির্দিষ্ট নথির রঙিন অনুলিপি জমা না দেওয়া, অস্পষ্ট ও অপাঠযোগ্য লেখা, পৃষ্ঠা বাদ পড়া, ইংরেজি অনুবাদ ছাড়া আঞ্চলিক ভাষার নথি জমা দেওয়া এবং পৃষ্ঠা নম্বরে অসংগতি থাকার মতো ত্রুটিও চিহ্নিত করা হয়েছে।]
সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি ‘রাহুল গান্ধী বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন’ নামে তালিকাভুক্ত হয়েছে। রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে ছাড়াও এতে স্বাক্ষর করেছেন বিরোধী জোটের একাধিক নেতা।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সৌগত রায়, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) নেতা সঞ্জয় রাউত, ডি রাজা, সিপিএম নেতা এম এ বেবি, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাজি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের ইটি মোহাম্মদ বশির।
আবেদনে ভারতের নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীকে বিবাদী করা হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদনে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি ১০ দফা প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে এসআইআর-সংক্রান্ত সব নথি ও রেকর্ড আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা যাচাই, অনিয়মের জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় একটি স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে নিরীক্ষা পরিচালনা।
বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের কিছু সিদ্ধান্তে অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এসআইআর স্থগিত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং কথিত ‘ভোট চুরি’র অভিযোগের প্রতিবাদে সোমবার নয়াদিল্লিতে পদযাত্রা করেন বিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা। তাঁদের গন্তব্য ছিল সুপ্রিম কোর্ট।
এদিন বিরোধী নেতারা ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের দাবির মধ্যে ছিল ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া, এসআইআর স্থগিত করা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া।
তবে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় প্রধান বিচারপতি তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর আগে পদযাত্রার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, সাধারণ নাগরিক কিংবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি—সবার জন্যই সুপ্রিম কোর্টের দরজা খোলা।
বিরোধী নেতাদের আইনজীবী দল আবেদন জমা দেওয়ার পর সন্ধ্যায় রাহুল গান্ধীও সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছান।
এখন আবেদনে চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধনের পর সেটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার ওপর।